৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট || 43th BCS Question and Solution
43 BCS question solution 2021(সম্পূর্ণ সমাধান)
৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট এর প্রশ্ন এবং উওর নিচে দেয়া হলঃ
১/ কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
- হিত্তিক ও তুখারিক
- তামিল ও দ্রাবিড়
- আর্য ও অনার্য
- মাগধী ও গৌড়ী
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সমস্ত ভাষাবংশকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম একটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ। ভাষাতত্ত্বের বিচারে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা : ১. কেন্তুম ও ২. শতম। কেন্তুম ভাগের মধ্যে থাকা হিত্তিক ও তুখারিক ভাষা শাখাগুলো এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত। বাকি অপশনগুলো শতম শাখার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
২/ ‘রুখের তেণ্ডুলি কুমীরে খাই’-এর অর্থ কী?
- তেজি কুমিরকে রুখে দিই
- বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
- গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
- ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
ব্যাখ্যা
রুখের তেণ্ডুলি কুমীরে খাই’-এর অর্থ গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়। চর্যাপদের মহিলা কবি কুক্কুরীপা রচিত ২নং পদে উক্ত কথাটি পাওয়া যায়।
৩/ মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
- মনসামঙ্গল
- পদ্মাপুরাণ
- মনসাবিজয়
- পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য ‘মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। মঙ্গলকাব্য ধারার প্রাচীনতম ধারা মনসামঙ্গল। মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত। মনসাদেবীর স্বপ্নাদেশ লাভ করে তিনি কাব্য রচনায় ব্রতী হন। তার রচিত কাব্যের নাম ‘পদ্মাপুরাণ’। মনসামঙ্গলের আরেক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম ‘মনসাবিজয়'। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি আলাওল রচিত প্রথম কাব্য ‘পদ্মাবতী'।
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- কোরেশী মাগন ঠাকুর
- সুলতান বারবক শাহ
- জমিদার নিজাম শাহ
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের ষোড়শ শতাব্দীর কবি দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি চট্টগ্রামের জাফরাবাদের শাসনকর্তা জমিদার নিজাম শাহের দেওয়ান ছিলেন। তিনি সাহিত্য রচনায় নিজাম শাহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তার রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'লায়লী-মজনু'। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ইউসুফজোলেখা’ কাব্য রচনা করেন শাহ মুহম্মদ সগীর। কবি আলাওলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কোরেশী মাগন ঠাকুর। সুলতান বারবক শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য রচনা করেন মালাধর বসু।
৫/ ‘চর্যাপদে’র প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
- নেপাল
- বাংলাদেশ
- উড়িষ্যা
- ভুটান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং তার সম্পাদনায় 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে ১৯১৬ সালে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদে ২৩ (মতান্তরে ২৪) জন কবির মোট ৫০টি (মতান্তরে ৫১টি) পদ বা গান রয়েছে।
- চৌবেরিয়া গ্রাম, নদীয়া
- কাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগণা
- বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
- দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ জন্মগ্রহণ করেন। উনিশ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন। তিনিই প্রথম বাংলা গদ্যের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিষ্কার করে বাংলা গদ্য ভাষায় যথাযথ যতিচিহ্ন প্রয়োগ করেন। তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ— প্রভাবতী সম্ভাষণ, বেতাল পঞ্চবিংশতি, ভ্রান্তিবিলাস, বর্ণপরিচয়, ব্রজবিলাস, রত্নপরীক্ষা। তিনি ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই যকৃতের ক্যান্সার রোগে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
৭/ তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার'— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
- অনন্ত প্রেম
- উপহার
- ব্যক্ত প্রেম
- শেষ উপহার
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের একটি রোমান্টিক কবিতা 'অনন্ত প্রেম'। এ কবিতার প্রথম দুটি চরণ— 'তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।' এ কবিতার বিখ্যাত আরও দুটি চরণ— 'আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে/অনাদিকালের হৃদয়-উৎস হতে। এ কাব্যগ্রন্থের আরও কয়েকটি কবিতা— উপহার, ব্যক্ত প্রেম, শেষ উপহার, নিষ্ফল কামনা, সিন্ধুতরঙ্গ, গুপ্ত প্রেম।
৮. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?
- পণ্ডিত
- বিদ্যাসাগর
- শাস্ত্রজ্ঞ
- মহামহোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার অমর কীর্তি বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ— বাল্মীকির জয়, কাঞ্চনমালা, বেণের মেয়ে, প্রাচীন বাংলার গৌরব, Discovery of Living Buddhism in Bengal, Magadhan Literature, Sanskrit Culture in Modern India / তিনি ১৮৯৮ সালে মহামহোপাধ্যায় ও ১৯১১ সালে সিআইই উপাধি
লাভ করেন।
লাভ করেন।
৯./ ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে'-কে এই দামাল ছেলে ?
- কাজী নজরুল ইসলাম
- কামাল পাশা
- চিত্তরঞ্জন দাস
- সুভাষ বসু
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা', (১৯২২)। এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতাবিদ্রোহী, প্রলয়োল্লাস, কামাল পাশা, রক্তাম্বরধারিণী মা। 'কামাল পাশা' কবিতাটি তিনি মোস্তফা কামালের পরিচালনায় তুরস্কের যুদ্ধ জয়ের পটভূমিকায় রচনা করেছিলেন। এ কবিতার প্রথম দুটি চরণ— 'ঐ ক্ষেপেছ পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই/ অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল-সামাল তাই।' এখানে ‘দামাল ছেলে’ বলতে কামাল পাশাকে বোঝানো হয়েছে।
১০. সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
- শনিবারের চিঠি
- রবিবারের ডাক
- বঙ্গদর্শন
- বিজলী
ব্যাখ্যা
শনিবারের চিঠি (১৯২৪) পত্রিকার সম্পাদক সজনীকান্ত দাস। তার সম্পাদিত আরেকটি বিখ্যাত পত্রিকা 'বঙ্গশ্রী'। 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকার সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ‘বিজলী' (১৯২০) পত্রিকার উদ্যোক্তা ছিলেন নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ ও দীনেশরঞ্জন দাশ। এ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক নলিনীকান্ত সরকার। তার সম্পাদনার সময় 'বিজলী' পত্রিকায় নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়।
১১. ‘মানুষের মৃত্যু হ'লে তবুও মানব থেকে যায়'— কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ?
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- প্রেমেন্দ্র মিত্র
- সমর সেন
- জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত 'জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘মানুষের মৃত্যু হ'লে' কবিতার বিখ্যাত পঙ্ক্তি— ‘মানুষের মৃত্যু হ'লে তবুও মানব থেকে যায়।' তার রচিত আরেকটি বিখ্যাত পতি 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়।
১২. কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
- নেকড়ে অরণ্য
- কাঁদো নদী কাঁদো
- রাঙা প্রভাত
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নেকড়ে অরণ্য'। আরও কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস— জলাংগী, জাহান্নাম হইতে বিদায় (শওকত ওসমান); নিষিদ্ধ লোবান, নীল দংশন (সৈয়দ শামসুল হক); উপমহাদেশ, কাবিলের বোন (আল মাহমুদ); রাইফেল রোটি আওরাত (আনোয়ার পাশা)। অন্যদিকে। মনোসমীক্ষামূলক উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো'-এর রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। 'রাঙা প্রভাত' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল। শওকত আলী রচিত ঐতিহাসিক। উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন'।